বিতর্কিত ধর্মপ্রচারক জাকির নাইকের বিরুদ্ধে রেড কর্নার নোটিস জারির আর্জি খারিজ করে দিল ইন্টারপোল। তার বিরুদ্ধে ভারত যথেষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ দিতে পারেনি বলে জানিয়েছে ইন্টারপোল কমিশন। এর ফলে জাকিরকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া বড় ধাক্কা খেল বলে মনে করা হচ্ছে।
২০১৬ সালে ঢাকার গুলশনে হামলাকারী জঙ্গিদের কয়েক জন জাকির নাইকের প্রচারে প্রভাবিত হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। তার পরেই দেশ ছাড়ে জাকির। আপাতত সে মালয়েশিয়ায় আশ্রয় পেয়েছে। ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে ইউএপিএ ও ফৌজদারি দণ্ডবিধির নানা ধারায় নাইকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে এনআইএ। তার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনকেও নিষিদ্ধ করা হয়। জাকিরের নিয়ন্ত্রণে থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টও ফ্রিজ করা হয়। ভারত, বাংলাদেশ, কানাডা, ব্রিটেনে নিষিদ্ধ হয়েছে জাকিরের টেলিভিশন চ্যানেল ‘পিস টিভি’।
Ads By Datawrkz
এনআইএ-র অভিযোগ অনুযায়ী, জাকির বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদে উস্কানি দেয়। ভারতে জাকির ও তার সংগঠনের ১৯টি স্থাবর সম্পত্তির খোঁজ পেয়েছেন এনআইএ-র গোয়েন্দারা। সেগুলির মোট মূল্য ১০৪ কোটি টাকা। এই সম্পত্তি কেনার টাকা কোন পথে এসেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরে চার্জশিটও দেওয়া হয়েছে জাকিরকে।
২০১৭ সালে জাকিরের বিরুদ্ধে রেড কর্নার নোটিস জারির আর্জি জানায় ভারত। তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে চিঠি লিখেছিলেন জাকিরের আইনজীবী ও ব্রিটিশ আইনজীবী সংস্থা কর্কার বিনিং-এর পিটার বিনিং। আজ ইন্টারপোল কমিশনে তা নিয়ে শুনানি হয়। ইন্টারপোল জানিয়েছে, জাকিরের জঙ্গি কার্যকলাপে যুক্ত থাকার প্রমাণ ভারত দিতে পারেনি। শুধু তাই নয়, ভারত সরকার এই আর্জির ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়াও সঠিক ভাবে অনুসরণ করেনি। জাকিরের বিরুদ্ধে আর্জিতে ‘রাজনৈতিক’ ও ‘ধর্মীয়’ বৈষম্যের গন্ধ পেয়েছে ইন্টারপোল কমিশন। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক স্বার্থও তেমন নেই বলেই মত তাদের।

Post a Comment