দ্রুতগতির বিমান যোগাযোগের এই যুগেও জাহাজে প্রমোদভ্রমণ মানুষের কাছে দারুণ জনপ্রিয়। শত বছর আগে আটলান্টিকে ডুবে যাওয়া টাইটানিকের ভয়াল কাহিনিও ভ্রমণপিপাসুদের জাহাজে ভ্রমণ থেকে নিবৃত্ত করতে পারেনি। চাহিদার কথা বিবেচনা করেই বিভিন্ন দেশে তৈরি হচ্ছে বিলাসবহুল জাহাজ। প্রথম জাহাজ কবে, কোথায় তৈরি হয়েছিল তার সঠিক কোনো ধারণা পাওয়া না গেলেও মিসরীয়রাই প্রথম জাহাজ তৈরি করেছিলেন। তারা বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াতের জন্য জাহাজ ব্যবহার করতেন। প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে এখন নির্মিত হচ্ছে আধুনিক জাহাজ। এমনই বিশ্বের পাঁচটি সবচেয়ে বড় জাহাজের তথ্য তুলে ধরা হলো নিচে।
লিবার্টি অব দ্য সিস : ‘লিবার্টি অব দ্য সিস’ জাহাজটি বর্তমান বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তর জাহাজ। এটি তৈরিতে ব্যয় হয়েছে ৮০ কোটি ডলার। এটি ৩৩৮.৯ মিটার লম্বা ও উচ্চতা ৭২ মিটার। যাত্রীধারণক্ষমতা চার হাজার ৩৭৫ জন। এটি ঘণ্টায় ২১.৬ নটিকেল মাইল গতিতে চলতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে সব রকম সুবিধা, যেটি বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই। ভেতরে রয়েছে মার্কেট, পুল, ক্লাব ও খেলাধুলার সরঞ্জাম।
ফ্রিডম অব দ্য সিস : ‘ফ্রিডম অব দ্য সিস’Ñ এটি বর্তমান বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তর জাহাজ। এটি তৈরি করতে খরচ হয়েছে ৮০ কোটি ডলার। এটি ৩৩৮.৪ মিটার লম্বা ও উচ্চতা ৬৩.৭ মিটার। ঘণ্টায় এটি ২১.৬ নটিকেল মাইল গতিতে চলতে পারে। এই জাহাজের ভেতরে রয়েছে লাইব্রেরি, ফিটনেস সেন্টার ও ডায়মন্ড ক্লাবসহ নানান আভিজাত্যের ছোঁয়া।
আরএমএস কুইন মেরি-২ : ‘আরএমএস কুইন মেরি-২’ জাহাজটি তৃতীয় বৃহত্তর জাহাজ, যা তৈরিতে খরচ হয়েছে ৯০ কোটি ডলার। এটি ৩৪৫ মিটার লম্বা ও উচ্চতা ৭২.১ মিটার। তিন হাজার ৯০ আরোহী নিয়ে ঘণ্টায় ৩০ নটিকেল মাইল গতিতে সাগর অতিক্রম করতে সক্ষম।
এলিও অব দ্য সিস : ‘এলিও অব দ্য সিস’Ñ এটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তর জাহাজ। নির্মাণে খরচ হয়েছে ১২০ কোটি ডলার, যা আগের সব বাজেটকে ছাড়িয়ে যায়। এটি লম্বায় ৩৬২ মিটার ও উচ্চতায় ৭২ মিটার। ছয় হাজার ২৯৬ যাত্রী নিয়ে এটি প্রতি ঘণ্টায় ২২.৬ নটিকেল মাইল গতিতে চলতে পারে। এতে রয়েছে ছোট-বড় এমনকি বয়স্কদের জন্য বয়সভেদে বিভিন্ন ক্লাবসহ অন্যান্য সব ধরনের সুবিধা।
ওয়াসিস অব দ্য সিস : ‘ওয়াসিস অব দ্য সিস’Ñ এটি তৈরিতে খরচ হয়েছে ১৪০ কোটি ডলার। বর্তমান বিশ্বের সর্ববৃহৎ জাহাজ এটি। লম্বায় ৩৬২ মিটার ও উচ্চতায় ৭২ মিটার। ছয় হাজার ২৯৬ যাত্রী নিয়ে এটি প্রতি ঘণ্টায় ২২.৬ নটিকেল মাইল গতিতে চলতে পারে। এখানে রয়েছে বাস্কেটবল কোর্ট, পুল খেলার সুব্যবস্থা, রেস্টুরেন্টগুলোতে রয়েছে মৌসুমি খাবার, থ্রিডি মুভি থিয়েটার। এ ছাড়া রাতের বেলায় সবচেয়ে আনন্দমুখর হয়ে ওঠে এই জাহাজ। কারণ এতে রয়েছেÑ বার, ক্লাবসহ বিভিন্ন মিউজিক্যাল প্রোগ্রামের ব্যবস্থা।
Post a Comment