অতি সাধারণ হয়েও অসাধারণ
থানায় নতুন ওসি ট্রান্সফার হয়ে এসেছেন। এসেই তিনি সেই আসনের এমপি সাহেবের সাথে দেখা করতে তার বাড়িতে যান। এমপি সাহেবের বাড়িতে যেয়ে বাড়ির উঠানে এক মুরুব্বিকে গরুকে খাদ্য খাওয়াতে দেখলেন।
অসি মুরুব্বিকে জিজ্ঞেস করেন এমপি সাহেব বাড়িতে আছেন কিনা। মুরুব্বির কাছ থেকে যে উত্তর এসেছিলো তার জন্য ওসি সাহেব মোটেই প্রস্তুত ছিলেন না। কারণ ওসি সাহেবকে বিস্ময়ের সাগরে ভাসিয়ে গরুকে খাদ্য খাওয়ানো সেই মুরুব্বি উত্তর দেন----
"আমিই এই আসনের এমপি।"
অন্য এমপিরা যেখানে প্রাডো, বিএমডাব্লিউ বা মার্সিডিজ বেঞ্জে চড়ে সরকারী টাকায় হাওয়া খেয়ে বেড়ান, সেখানে সেই এমপি দামী গাড়ির বদলে বাস, হোন্ডা, ভ্যান কিংবা বাইসাকেলে চলাফেরা করতেই অভ্যস্ত ছিলেন।
ওয়ান ইলেভেনের পর আর্মি আতংকে যখন সব রাঘব বোয়াল রাজনীতিকরা ভয়ে পালিয়ে বেড়াতেন তখন তিনি নিজেই আর্মি ক্যাম্পে গিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলেন তার নামে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ আছে কিনা।
তার জীবন ছিল অত্যন্ত সাধারন ও আড়ম্বরহীন। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় তিনি দেশ সেরা ইউপি চেয়ারম্যান মনোনীত হয়েছিলেন। তিনি সাতক্ষীরা আশাশুনি আসন থেকে দুই দুইবারের নির্বাচিত সাংসদ।
সাদা মনের অসাধারণ সেই মানুষটি মাওলানা রিয়াসত আলী। তিনি চলে গেলেন তার প্রিয় মহান রবের সান্নিধ্যে। (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নাইলাহি রাজিউন)
দেশ যখন অসৎ, চরিত্রহীন ও দুর্নীতিবাজ রাজনৈতিক নেতায় ভরে গেছে, তখন মাওলানা রিয়াসত আলীরা সততা, সরলতা, নিষ্ঠা ও চারিত্রিক মাধুর্যের আলো ছড়িয়ে গেছেন চুপিসারে, সবার পরোক্ষে।
তাইতো তিনি অনেকের একজন হয়েও অনন্য, অতি সাধারণ হয়েও অসাধারণ।
Post a Comment